সর্দি -কাশি – জ্বর এগুলো আমাদের জীবনে কমন ব্যাপার । অনেক সময় বেশী ঠান্ডা জল খেলে কারও সর্দি – কাশি হয় । আবার গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড গরমের সময় যখন অফিসে এসি রুমে বসে সারাদিন কাজ করে ছুটির পর যখন রাস্তায় ওই প্রচণ্ড গরমে বেড়তে হয় , তখন অনেকের ক্ষেত্রে সর্দি – কাশি শুরু হয়ে যায় । আবার বর্ষায় বৃষ্টিতে ভিজেও অনেক সময় সর্দি – কাশি শুরু হয়ে যায় । আবার অনেক সময় সিজিন চেঞ্জ হলেও আমদের সর্দি – কাশি শুরু হয়ে যায় । যা আমাদের অনেকখানি কাবু করে ফেলে । বিশেষ করে রাস্তা ঘাটে বেরিয়ে খুব লজ্জায় পড়তে হয় । আমরা বিষয় টাকে চেপে রাখতে চাইলেও অনেক সময় চাপতে পারি না । আর এই সমস্যা থেকে মুক্তির পাওয়ার জন্য কিছু ঘরোয়া উপায় টিপস গুলো যদি আপনারা করে দেখেন তাহলে ভালো ফল পাবেন…………………
১) বাসক পাতা ১০ গ্রাম , তুলসী মনজুর ১০ গ্রাম , ২৫০ গ্রাম জলে ফুটিয়ে কম করে ১০০ গ্রাম হলে নামাতে হবে । তারপর ছেঁকে নিয়ে ৪ চামচ মধু মিশিয়ে দিনে দু-বার খেতে হবে ৫ দিন । অথবা ……
২) বাসক পাতা ৪ গ্রাম , তুলসী পাতা ৪ গ্রাম , আদা ৪ গ্রাম, তেজপাতা ৩ গ্রাম, পিপুল ৩ গ্রাম , এবং বচ ৩ গ্রাম একত্রে ৩ কাপ জলে সেদ্ধ করে কমিয়ে এক কাপ জলে আনতে হবে । ওই জল উষ্ণ অবস্তায় চায়ের মতো খেতে হবে রোজ দু-বেলা করে অন্ততঃ ৫ দিন ।
৩) বাচ্ছাদের হুপিং কাশির জন্য ১০০ গ্রাম গাজর রস , ৫০ গ্রাম মিছরী , ১০ গ্রাম বাসক পাতার রস এবং ১০ গ্রাম তুলসী মনজুরী থেতো করা রস একত্রে ফুটিয়ে যখন গাড় হবে । তখন নামিয়ে ঠান্ডা করে শিশিতে ভরে রাখতে হবে । ওই রস দিনে তিনবার রোগীকে খাওয়াতে হবে । প্রত্যেক বার ১ চামচ রসের সাথে সামান্য গোলমরিচের গুঁড়ো খেতে হবে । এটা ১৫ দিন খেতে হবে ।
ড্যানড্রাফ দূর করার উপায়:
ড্যানড্রাফ বা খুসকি মাথার একটা সামান্য সমস্যা । প্রত্যেক মানুষ নিজের জীবনে এক না একবার ড্যানড্রফের শিকার অবশ্য হয়েছে । এটা ত্বক কে রুক্ষ করে দেয় , আর মাথায় ফাঙ্গাল সংক্রমনেরও সৃষ্টি করে । এতে মাথায় চুলকানির সাথে জ্বালাও হয় । সব থেকে আগে জানার দরকার যে ড্যানড্রাফ কি জিনিস ? এটা তখন হয় যখন আপনার মাথায় কোন রকমের ফাঙ্গাল সংক্রমন হয় । এটা বাড়তে থাকে । এটা কে ম্যলসেজিয়া বলে । এতে মাথায় চুলকানি আর চুল পড়া সমস্যা হয় ।
ড্যানড্রাফ হওয়ার কারন হলো — ত্বকের যত্ন না করা , মাথা ভালো করে না আঁচড়ানো , ঠিক করে শ্যাম্পু না করা , আর খাওয়া – দাওয়া ঠিক করে না করা । কারন তৈলাক্ত ত্বকে ব্যাকটেরিয়া আর ফাঙ্গাস হয়ে যায় । ড্যানড্রাফ স্থায়ী রূপে দূর করার কিছু ঘরোয়া উপায় রয়েছে তা ব্যবহার করলে মুক্তিলাভ হবে ।
১) হেনা ঃ– ত্বকের চুলকানি আর ড্যানড্রাফ দূর করতে চুলে হেনা করা খুব ভালো । যারা হেনা করেন তারা যদি এই হেনার সাথে অ্যালোভিরার রস মিশিয়ে ব্যবহার করেন , তাতে চুলে কালারও হবে আবার তার সাথে সাথে ড্যানড্রফও দূর হবে ।
২) অ্যালোভিরা ঃ– ড্যানড্রফের জন্য অ্যালোভিরা খুবই উপকারী । অ্যালোভিরার পাতা ছিঁড়ে তার রস বের করে মাথায় ভালো করে লাগিয়ে রাখুন । তারপর সেটা ঘন্টা তিন মাথায় রেখে দিন । এরপর ভালো করে চুলটা ধুয়ে ফেলুন । শ্যাম্পু করার প্রয়োজন নেই । এটা সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন করুন ।
৩) অ্যালমন্ড তেল ঃ– অ্যালমন্ড তেল চুলের রুক্ষ ভাব দূর করে সঙ্গে আবার ড্যানড্রাফও দূর করে । তাই এটা ব্যবহার করলে দুটো বেনিফিট পাবেন । এই তেল আগের দিন রাত্রে মাথায় লাগিয়ে রাখুন ও পরের দিন সকালে ভালো করে শ্যাম্পু করে ধুয়ে ফেলুন । ভাল ফল পাবেন । এটাও সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার করুন ।
৪) রোজ শ্যাম্পু করা ঃ– রেগুলার শ্যাম্পু করা ভালো । কিন্তু তাই বলে টানা ১০ – ১৫ দিন করে ফেললেন । তারপর আর করলেন না । সেটা ঠিক না । তার চেয়ে সপ্তাহে ২ বার করুন । আর যারা everyday বাইরে যান তারা ৩ – ৪ দিন করুন তাহলে চুলের নোংরা টা পড়ে না ।
বিঃ দ্রঃ — এর সাথে সাথে অ্যালোভিরা জুস যদি খেতে পারেন , তাহলে খুব ভালো ফল পাবেন
ব্রন দূর করার কিছু সহজ উপায় :
ব্রণ সৌন্দর্য নষ্ট করে । ব্রণ আমাদের লজ্জিত করে তোলে । আর এটা ছেলে – মেয়ে উভয়েরই সমস্যা । তবে মেয়েদেরই এটা বেশী দেখা যায় । আর এরজন্য কোন বয়সের প্রয়োজন নেই এটা যে কোন বয়সে হতে পারে । অল্পবয়সী মধ্যবয়সী । এটা হয় কি কারনে না জানলে , এই সমস্যার সমাধানও হবে না । তাই আমি আগে কারন গুলো আপনাদের গ্রীষ্মকালে যাদের ত্বক বেশী তৈলাক্ত থাকে তাদের সমস্যা গুলো বেশী দেখা যায় । সূর্যের প্রখর তাপে ত্বকের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় । ব্রণ ত্বকের উজ্জ্বল ভাব কেও নষ্ট করে দেয় । আমাদের ত্বকের তৈল গ্রন্থি ব্যাকটেরিয়া দ্বারা আক্রান্ত হলে এর আকৃতি বৃদ্ধি পায় , তখন এর ভেতরে পুঁজ জমা হতে থাকে । যা ধীরে ধীরে ব্রণর আকার ধারন করে । বাজারে কসমেটিক্স ব্যবহার না করায় ভালো । ঘরোয়া উপায় ব্রণ কমাতে সাহায্য করে ।
কারন ঃ— ব্রনর একটি অন্যতম কারন হলো অপরিস্কার ত্বক , তৈলাক্ত ত্বক , সূর্যের তাপে বেরনো । এই সমস্ত কারন গুলো জেনে থাকলে আপনাদের সুবিধা হবে সেইমতো স্টেপ নিতে ।
ব্রন দূর করার কিছু সহজ উপায় ————
১) মুলতানি মাটি ঃ— তৈলাক্ত ত্বক দূর করতে মুলতানি মাটি প্রয়োজনীয় । মুলতানি মাটির সাথে জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরী করে মুখে ভালো করে লাগিয়ে নিন । তারপর সেটা মুখে কিছুক্ষণ রেখে দিন । কারন মুলতানি মাটি ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে নেয় । যার ফলে ব্রন ওঠা কমে যায় ।
২) শশার রস ঃ—- শশার রস তৈলাক্ত দূর করে । প্রতিদিন বাইরে থেকে এসে শশার রস মুখে লাগিয়ে রেখে দিন কিছুক্ষণ রেখে দিন । তারপর মুখটা ধুয়ে ফেলুন । এভাবে রোজ মুখ পরিস্কার করলে মুখের তৈলাক্ত ভাব একেবারে দূর হয়ে যায় । যার ফলে ব্রন হওয়ার প্রবনতা দূর হয়ে যায় ।
৩) কাঁচাহলুদ ও চন্দন গুড়ো ঃ— ব্রনর জন্য এই এই দুটোই খুব উপকারী । কাঁচা হলুদ বাটা ও চন্দন গুড়ো একসাথে মিশিয়ে তাতে জল দিয়ে পেস্ট তৈরী করে নিন । তারপর এই পেস্ট টা ভালো করে মুখে লাগিয়ে নিন । এবং সেটা কে বেশ কিছুক্ষণ রেখে দিন । তারপর শুকিয়ে গেলে এটা ঠান্ডা জলে ভালো করে মুখটা ধুয়ে ফেলুন । এটা ব্রন দূর করতে সাহায্য করে ।
৪) তুলসি পাতার রস ঃ—- ব্রণ সমাধানের জন্য তুলসি পাতার রস খুব উপকারী । তুলসী পাতায় আয়ুর্বেদিক গুন রয়েছে । শুধুমাত্র তুলসী পাতার রস ব্রণর জায়গা গুলোতে লাগিয়ে নিন । এবং এটা শুকিয়ে যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন । তারপর শুকিয়ে গেলে হালকা কুসুম গরম জলে ধুয়ে ফেলুন ।
৫) গোলাপ জল ঃ— গোলাপ জল ব্রণর জন্য খুব ভালো । তাই গোলাপ জল দিয়ে মুখ পরিস্কার করতে পারেন নিয়মিত । এবার বলব দারুচিনির গুড়োর সাথে যদি গোলাপ জল মিশিয়ে ব্রণর জায়গা গুলোতে ভালো করে লাগিয়ে নেন , তাহলে দেখবেন ব্রণর ব্যাথা থেকে অনেকটা মুক্তি পাবেন । এটা ২০ মিনিট লাগিয়ে রাখতে হবে ।
Wrinkle বা বলিরেখা দূর করার উপায়:
আপনার মুখ থেকে বলিরেখা মুছে ফেলার জন্য এখন সহজ উপায় এসে গেছে । কিন্তু কিভাবে আপনার ত্বকের ভাঁজ দূর করা যায় । একটা ভাঁজ স্থায়ী হতে হতে বলিরেখার রূপ নেয় । ঘাড়, গলা, গাল, হাত ইত্যাদি তে বলিরেখা দেখা যায় এই বলিরেখা ও সংকোচন । এটা আপনাকে দেখতে কুশ্রী করে দেয় । অত্যাধিক সূর্যলোক ও ত্বকের উপর দূষণ কারী পদার্থ ত্বকের উপর বলিরেখার সৃষ্টি করে । অত্যাধিক সূর্যলোক ও ত্বকের
